ঢামেকে চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী এখন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভোগান্তিতে রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, জরুরি বিভাগের ভেতরে চিকিৎসকরা গেট বন্ধ করে অবস্থান করছেন। বাইরে অবস্থানরত ঢাবি শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন। এ অবস্থায় জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ রয়েছে, ফলে নতুন কোনো রোগী ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না।

চিকিৎসা নিতে আসা জেসমিন আক্তার জানান, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। আজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন এবং টিকিটও সংগ্রহ করেন। কিন্তু টিকিট নেওয়ার পরই বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এবং তাকে জোরপূর্বক বাইরে বের করা হয়।

ঢাবি শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ ইমন অভিযোগ করেন, তার হলের ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তিনটি ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ পাওয়া যায়নি বলে ডাক্তারকে জানালে, চিকিৎসক তার ওপর আক্রমণ করেন। পরে আরও কয়েকজন এসে হামলা চালায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, “আমার ভাই অপারেশন থিয়েটারে আছে। আমি ভেতরে যেতে চাই, কিন্তু আনসার সদস্যরা ঢুকতে দিচ্ছেন না।”

ঘটনার সূত্রপাত জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করার পর ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে আনার পরামর্শ দেন। ইনজেকশনটি খুঁজে না পেয়ে শিক্ষার্থীরা আবার চিকিৎসকের কাছে যান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

ঢামেকের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রেসক্রাইব করা ইনজেকশনটি প্যাসিডিন জাতীয়। এর কারণেই হয়তো দোকানগুলো ওষুধ দিতে অস্বীকার করেছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, “চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মারামারি পর রোগীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছে না। দুই পাশে অবস্থানরত পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জরুরি সেবা বন্ধ রয়েছে।”

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top