গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ অকার্যকর থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশও।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে এসব অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সাংবিধানিক বৈধতাকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন। তবে অন্তত ২০টি অধ্যাদেশে মতৈক্য না হওয়ায় সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হবে না, সেগুলো পরবর্তীতে সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
বাতিলের সুপারিশকৃত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫
- বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫
- পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
- বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬
- মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫
- তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ অন্যান্য
বিশেষ কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে ত্রুটি ও অসঙ্গতি রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করে নতুনভাবে আইন আনার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে তা উত্থাপন করে ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন নিতে হয়। তা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বাতিল হয়ে যায়।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইতোমধ্যে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর অনুমোদনের শেষ সময় আগামী ১২ এপ্রিল। এর মধ্যে অনুমোদন না পেলে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করে আবারও বিল আকারে সংসদে আনা হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি এখন বাতিলের মুখে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে এসব অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল হয়ে যেতে পারে, যদিও ভবিষ্যতে সংশোধন করে নতুনভাবে আইন প্রণয়নের সুযোগ থাকছে।
বিষয়:
