‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে এগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ এএম
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ প্রচারণা জোরদার করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রচারণার অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট আটটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হবে। ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে, “আমাদের সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবে গড়ার জন্য হ্যাঁ-তে সিল দিন।”
প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে বলেন, “সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সচেতনতা তৈরি করবে। এ বিষয়ে আইনগত কোনো বাধা নেই। সরকার এ বিষয়ে টপ লিগ্যাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে। তারা লিখিতভাবে জানিয়েছে, সরকার চাইলে প্রচার চালাতে পারে।”
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম কালবেলা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের অংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য থাকায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আগে যে গণভোটগুলো হয়েছিল, সেখানে সরকারও পক্ষেই কথা বলেছিল। সাধারণত সারা দুনিয়াতেই সরকার গণভোটের পক্ষে কথা বলে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যদি সত্যি সংস্কার চাই, তাহলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এটি দেশের ক্ষমতার বাঁক জনগণের দিকে ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অতীতকে আমরা পুনরায় দেখতে চাই না। তাই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বরিশালে এক অনুষ্ঠানে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণভোট অন্যান্য ভোটের মতো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে ইমামরা এগিয়ে আসুন।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব থাকবে। ভোটারদের কাছে প্রতিটি প্রস্তাবের জন্য শুধু একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিকল্প থাকবে।
বিষয়:
