জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিলো গেল বুধবার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বুধবার রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। পরে ক্রেন ও এক্সকাভেটর এনে বাড়ি ভাঙা শুরু হয়।
সেই থেকে এই ঘটনা এখনও টক অব দ্য টাউন। তবে, বত্রিশের বাড়ি ভাঙ্গার সঙ্গে আরও একটি বিষয় ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ভাঙার ঘটনার মধ্যেই ২০১০ সালের ১৪ নভেম্বরে একটা ঘটনা সামনে এসেছে। এনিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে নেট দুনিয়াতে।
সেই দিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনেকটা জোর করে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সেদিন বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও র্যাব খালেদা জিয়ার বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় তারা বাড়ির ভেতর ও বাইর থেকে মাইকে বেগম জিয়াকে বের হয়ে আসতে বলেন। বের না হওয়ায় তার রুমে প্রবেশ করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।
ওই সময় বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, বাড়ি থেকে আমাকে এক কাপড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে। আমাকে টেনে হিঁচড়ে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আমি প্রায় ৪০ বছর এই বাড়িতে কাটিয়েছি। আমার স্বামী জীবন দেওয়ার পর তার অনেক স্মৃতি নিয়ে এই বাড়িতে ছিলাম।
তিনি বলেন, সারাদিন আমাকে কিছু খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ তারা মিথ্যা কথা বলছে। আমি নাকি আমার বাড়ি ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি। সব মিথ্যা, বানোয়াট। নিজে যেতে না চাইলে তুলে নিয়ে যাও বলেও একজন হুমকি দিয়েছে। তারা জবরদস্তি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে খালেদা জিয়া বলেন, আমি এর বিচারের ভার মহান আল্লাহার হাতে ছেড়ে দিলাম। দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দিলাম।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেইদিন খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করেছেন শেখ হাসিনা। খুব গর্ব করেই বলেছেন, পরিকল্পনা করেই বাড়ি ছাড়া করেছেন খালেদা জিয়াকে। চব্বিশের গণঅভ্যুথানে ক্ষমতার মাত্র ১৬ বছরের মাথায় শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়া করেছেন ছাত্র-জনতা। আর এখনো দেশের মানুষের ভালোবাসায় আছেন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া।
সেই দিনের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে বহু মানুষের মনে। সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করছেন তারা। রাশিদুল ইসলাম নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে এক কাপড়ে একজন বিধবা, স্বামী ও সন্তানহারা মহিলাকে বের করে দিয়েছিল মনে আছে নিশ্চয়ই...! সে মহিলার চোখ থেকে কত পানি ঝরেছে এখনো মানুষ সেই কথা গুলো ভুলে যায়নি..! ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
নাঈম নামে আরেকজন লিখেছেন, বেগম জিয়া কান্না করছিলেন। হাতের টিস্যুটা কবার ভিজেছে ইয়ত্তা নেই। ঝর্ণার মতো চোখ থেকে অশ্রু বইছিল। ৪১টা বছর ওই বাড়িটা ছিল তার স্মৃতি। তিনি বলেছিলেন 'আল্লাহর গজব পড়বে। যেভাবেই হোক আর যে কারণেই হোক গজব আজ সবাই দেখছে।
বেনজিন খান নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, সেদিন কেবল অসহায়ের মতো কেঁদেছিলেন এক বিধবা নারী বেগম খালেদা জিয়া। তখনই মনে হয়েছিল, এই চোখের জলে বিষ আছে। যে বিষে তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে একদিন। দেখতে জানলে মানুষ চর্ম চোখেই দেখতে পারে আল্লাহর বিচার। নিউটনের থার্ড ল। অথবা বাংলা প্রবাদ যে যতটুকু পানিতে নামবে ততটুকু ভিজবে। আফসোস, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না!
অনলাইন এক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, এই ভাঙচুর খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে দেয়ার ফল। এর আগে আরও একটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ভাইয়েরা আমার, ৩২ নম্বরে একটা ইটও যেন অবশিষ্ট না থাকে।