ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা...
শাকিল খান | প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:২৩ এএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধায় নিউইয়র্ক থেকে সড়কপথে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান তিনি।
ওয়াশিংটন পৌঁছালে সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এর আগে, দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে সফরকালীন আবাসস্থল দ্য লোটে থেকে গাড়িতে করে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করবেন এবং ৩ অক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করবেন। সফর শেষে দেশের উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করবেন এবং ৪ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। পরদিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রিয়েসুস। এ সময় তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএনজিএ’র ৭৮তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ অব কমিউনিটি ক্লিনিক: ইনোভেটিভ অ্যাপ্রোচ অ্যাচিভিং ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ ইনক্লুসিভ অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চ-স্তরের সাইড-ইভেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আমরা বহুপাক্ষিক অর্থায়ন সংস্থাগুলোসহ আমাদের উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি উন্নয়নশীল বিশ্বে কমিউনিটি-ক্লিনিক স্বাস্থ্য সেবায় তাদের সহায়তার হাত প্রসারিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
একইদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্পেন ও ইউরোপীয় কাউন্সিল আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস আ ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে তিনি চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এদিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বর্তমানে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তহবিলের সুবিধা সীমিত করেছে। আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে একমত যে বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত।’
২০ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার সংক্রান্ত একটি জাতিসংঘ সন্ধিপত্রে (ট্রিটি) সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি অব এরিয়াস বিয়ন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন’ (বিবিএনজে) ট্রিটি সই করেন তিনি। একই দিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রতিনিধি ডাইনিং রুমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডারদের বার্ষিক সভায় বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এছাড়া ‘ইসিওএসওসি চেম্বারে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রদান: ত্বরান্বিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অভিযোজন ও সবার জন্য প্রাথমিক সতর্ক বার্তা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা শীর্ষক সম্মেলনের উচ্চ স্তরের বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনেও অংশ নেন তিনি। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভাষণে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে লড়াইয়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বছর ফিলিস্তিনের ওপর বিপর্যয় নিয়ে আসা- ‘নাকবা’-এর ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার অর্জনের পথ এখনও আশার মুখ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পাশে থাকবে।’
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। একই দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
