আজ বিশ্ব গোসল দিবস, যেভাবে শুরু হলো দিবসটি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

গোসল দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অভ্যাস হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বিশেষ দিন। প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয় বিশ্ব গোসল দিবস, যা পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা এবং চিন্তার সৃজনশীলতাকে উদযাপন করে।

দিবসটির ইতিহাস জড়িয়ে আছে প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সঙ্গে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, গোসল করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন পানিতে নামলে পানির স্তর বেড়ে যায়। এ থেকেই তিনি আবিষ্কার করেন, কোনো বস্তু পানিতে নিমজ্জিত হলে তা নিজের আয়তনের সমপরিমাণ পানি স্থানচ্যুত করে।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে উচ্ছ্বসিত হয়ে আর্কিমিডিস গোসলের টব থেকে বের হয়ে “ইউরেকা, ইউরেকা” বলে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যান। গ্রিক ভাষায় এই শব্দের অর্থ “আমি খুঁজে পেয়েছি”।

ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে। প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী গ্রীষ্ম শুরু হতো ২১ জুন। সেই হিসাবে ১৪ জুনকে আর্কিমিডিসের সেই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের দিন হিসেবে ধরা হয়।

পরবর্তীতে এই ঘটনাকে স্মরণ করে ১৪ জুনকে বিশ্ব গোসল দিবস হিসেবে পালনের ধারণা জনপ্রিয়তা পায় এবং ২০১৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ষিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বর্তমান সময়ে গোসল শুধু পরিচ্ছন্নতার কাজ নয়, বরং মানসিক প্রশান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেও বিবেচিত হয়। গরমের দিনে ঠান্ডা পানির গোসল যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি শীতের সকালে গোসল অনেকের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের সময় মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি শিথিল থাকে, ফলে তখন নতুন চিন্তা ও সৃজনশীল ধারণা জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ব্যস্ত জীবনের শেষে একটি গোসল শরীর ও মন দুটোকেই সতেজ করে তোলে। তাই বিশ্ব গোসল দিবস শুধু একটি ব্যতিক্রমী উদযাপন নয়, এটি পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারকও বটে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top