অফিসে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

শহুরে ব্যস্ত জীবনে এখন সম্পর্কের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে কর্মক্ষেত্র। একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করা, চাপ সামলানো, সাফল্য ভাগাভাগি কিংবা খারাপ সময়ে পাশে থাকা—এসবের মধ্য দিয়েই অনেক সহকর্মীর মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিশেষ সম্পর্ক। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গড়াচ্ছে প্রেমেও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে মানুষের দিনের বড় একটি সময় কাটে অফিসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সহকর্মীদের সঙ্গে মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। আর সেই জায়গা থেকেই জন্ম নেয় ভালো লাগা, নির্ভরতা এবং প্রেম।

সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্কপ্লেস রোমান্স স্ট্যাটিস্টিকস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক পরিণয়ে গড়িয়েছে। অর্থাৎ অফিসে শুরু হওয়া অনেক সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ’। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার ফলে সহকর্মীদের প্রতি বিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তা তৈরি হয়। এছাড়া ৬১ শতাংশ কর্মী বলেছেন, ব্যস্ততার কারণে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় সহকর্মীদের মধ্যেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তবে অফিসের সম্পর্ক সবসময় সুখকর অভিজ্ঞতা বয়ে আনে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক তাদের কাজের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। কারও ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও অনেক সময় ব্যক্তিগত টানাপোড়েন কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

এছাড়া ৫২ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, সম্পর্কের কারণে সহকর্মীদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। অফিসে গুজব, ঈর্ষা কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। প্রায় অর্ধেক কর্মী জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে অফিসে কানাঘুষা বা আলোচনা চলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৩৫ শতাংশ কর্মী তাদের সম্পর্কের বিষয়টি অফিস কর্তৃপক্ষকে জানান না। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অস্বস্তি এবং চাকরিগত ঝুঁকির আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানুষ যেখানে বেশি সময় কাটায়, সেখানে আবেগ তৈরি হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে সম্পর্কের কারণে যেন পেশাদারিত্ব, কর্মপরিবেশ এবং অন্য সহকর্মীদের স্বস্তি ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

এ বিষয়ে সাদমিনা নামের এক তরুণী বলেন, “অফিসে একজনকে ভালো লাগে। একসঙ্গে কাজ করতে করতে কখন যে তার প্রেমে পড়ে গেছি, টেরই পাইনি। আমরা একসঙ্গে লাঞ্চ করি, চা খাই, অনেক গল্প হয়। তবে এখনও ভালো লাগার কথাগুলো সরাসরি বলা হয়নি।”

অন্যদিকে সহকর্মীকে বিয়ে করা শাহরিয়ার নীরব বলেন, “আমরা একই অফিসে চাকরি করি। পাঁচ বছর আগে আমাদের প্রেম শুরু হয়। তখন সহকর্মীরা মজা করতো, হাসাহাসি করতো। কিন্তু আমরা বিষয়টা উপভোগই করতাম।”

হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, “প্রেমের সময় অফিসের চাপও চাপ মনে হতো না। প্রেয়সীর দিকে তাকালেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।”

সংসার জীবন নিয়ে নীরব বলেন, “আমরা এখনও ভালো আছি। এত বছর পরও মনে হয় প্রেমের প্রথম দিনের অনুভূতি রয়ে গেছে। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, আমরা এখনও সহকর্মী।”



বিষয়:



Top