কষ্ট কমানোর বড় ওষুধ ‘স্পর্শ’, নিঃসঙ্গ জীবনে কী হতে পারে বিকল্প?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১২:৪২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে মানুষে মানুষে দূরত্ব যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। অথচ বিজ্ঞান বলছে, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য ‘স্পর্শ’ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দুঃখের মুহূর্তে কারও কাঁধে হাত রাখা, আলতো ছোঁয়া কিংবা একটুখানি আলিঙ্গনও মানুষের মনে এনে দিতে পারে স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি।

গবেষকদের মতে, মানুষের শরীরে স্পর্শের মাধ্যমে নিঃসৃত হয় অক্সিটোসিন নামের এক ধরনের হরমোন, যাকে বলা হয় ‘ভালোবাসার হরমোন’। এটি মানসিক চাপ কমাতে, আত্মিক বন্ধন তৈরি করতে এবং উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে। এমনকি কঠিন মানসিক অবস্থাতেও প্রিয়জনের হাত ধরা মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত শান্ত করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মের পর থেকেই মানুষের বিকাশের সঙ্গে স্পর্শ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মায়ের উষ্ণ স্পর্শ নবজাতকের শারীরিক স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন স্পর্শহীনতায় থাকলে বিষণ্নতা, উৎকণ্ঠা, মানসিক অস্থিরতা এমনকি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত আলিঙ্গন বা মানবিক স্পর্শ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। কর্মক্ষেত্র কিংবা খেলাধুলার দলগত পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক স্পর্শ আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করে।

তবে যাদের জীবনে প্রিয়জনের উপস্থিতি কম, তাদের জন্যও কিছু বিকল্প উপায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যাসাজ থেরাপি, পোষা প্রাণীকে আদর করা, ভারী কম্বল ব্যবহার, গরম পানিতে গোসল কিংবা হারবাল চা পান—এসবও মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে। এমনকি নিজেকে নিজে জড়িয়ে ধরার মতো ছোট অভ্যাসও সাময়িক প্রশান্তি দিতে সক্ষম।

তবে সব ক্ষেত্রেই একটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—স্পর্শের ক্ষেত্রে অবশ্যই থাকতে হবে পারস্পরিক সম্মতি বা ‘কনসেন্ট’। কারণ মানবিক সম্পর্কের সৌন্দর্য নির্ভর করে সম্মান, নিরাপত্তা ও আন্তরিকতার ওপর।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, স্টার্স ইনসাইডার।



বিষয়:



Top