বিশ্বজুড়ে আসছে তীব্র তাপপ্রবাহ, জাতিসংঘের সতর্কতা জারি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এল নিনোর বিকাশ দ্রুত হচ্ছে। এর প্রভাবে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। পরিস্থিতি অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এল নিনোর তীব্রতা কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তারপরও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এর ফলে খরা ও অতিবৃষ্টির ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর আমেরিকার কিছু এলাকা, আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খরার পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতাও বাড়তে পারে।

সেলেস্তে সাউলো জানান, ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো পৃথিবীকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছরের অভিজ্ঞতা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। মশাবাহিত ও অন্যান্য বাহকনির্ভর রোগের বিস্তার বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সরবরাহেও সংকট তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, আগে থেকেই সংকটে থাকা জনগোষ্ঠীগুলো এ পরিস্থিতিতে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেই এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এল নিনোর এই সতর্কবার্তাকে জলবায়ু সংকটের আরেকটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই পরিস্থিতি।

তার ভাষ্য, বিশ্বকে এটিকে জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ এল নিনো উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top