রেকর্ড উচ্চতা থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপা ও প্লাটিনামের দামে বড় পতন

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ করেই বড় ধাক্কা খেল মূল্যবান ধাতুর দাম। স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সাম্প্রতিক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেয়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৪৯ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছানোর পর সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৯৭ ডলারে।

একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে এসেছে।প্লাটিনামের বাজারেও দেখা গেছে বড় ধস। সেশনের শুরুতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৫০ ডলার ছোঁয়ার পর এর দাম ১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৭ দশমিক ০৯ ডলারে।

রুপার দামও কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, নেমে এসেছে ৭২ দশমিক ৮৭ ডলারে, যেখানে সেশনের শুরুতে এটি ৮৩ দশমিক ৬২ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিল।

প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। স্পট মার্কেটে ধাতুটির দাম ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩৪ দশমিক ০৪ ডলারে।

হাই রিজ ফিউচারের ধাতু ব্যবসা বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, সব ধাতুই সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এখন সেই উচ্চতা থেকে স্বাভাবিকভাবেই মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আমরা মূলত সেই পুলব্যাকটাই দেখছি।

চলতি বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামও বড় ধরনের বার্ষিক লাভের পথে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রুপার দাম-এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে স্বীকৃতি, সরবরাহ সংকট এবং শিল্প ও বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ায় রুপার দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ডেভিড মেগার আরও বলেন, রুপার ক্ষেত্রে সরবরাহ সংকট এখনো বড় বিষয়। এই মৌলিক চাহিদা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাজারকে সমর্থন দিতে পারে।

এদিকে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তিনি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এটি একটি অ-ফলনশীল সম্পদ হওয়ায় কম সুদের পরিবেশে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বর্তমানে বাজার ধারণা করছে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুটি সুদের হার কমতে পারে। এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের ডিসেম্বর সভার কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বিনিয়োগকারীরা, যা ভবিষ্যৎ নীতির ইঙ্গিত দেবে।



বিষয়:



Top