ঝুঁকিতে জ্বালানি নিরাপত্তা
৩০০ বছরের কয়লা মজুদ রেখে বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
বাংলাদেশের মাটির নিচে রয়েছে প্রায় ৭.১ বিলিয়ন টন কয়লার বিশাল মজুদ, যা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ বছর দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অথচ দেশীয় এই সম্পদ ব্যবহারের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পাঁচটি প্রধান কয়লাখনি—বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দীঘিপাড়া, খালাশপীর ও জামালগঞ্জে বিপুল পরিমাণ উচ্চমানের কয়লা মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে জামালগঞ্জেই রয়েছে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন টন কয়লার সম্ভাব্য মজুদ।
বর্তমানে দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টন। কিন্তু একমাত্র বড়পুকুরিয়া খনি থেকে বছরে মাত্র ৭ থেকে ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন হওয়ায় দেশের প্রায় সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই এখন আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কয়লা আমদানিতে বছরে প্রায় ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়ছে চাপ, একই সঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং জাতীয় কয়লানীতি চূড়ান্ত না হওয়ার কারণে সম্ভাবনাময় খনিগুলো এখনো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালে খসড়া কয়লানীতি তৈরি হলেও দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে পরিবেশবিদদের একাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করলেও জ্বালানি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আগামী কয়েক দশক কয়লাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় দেশীয় কয়লা সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিষয়:
