৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন, বাড়ছে থোক বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১২:৪১ এএম
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যোগ হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।
সভায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের আলোকে এবারের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট উন্নয়ন কর্মসূচির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এছাড়া—
- শিক্ষা খাতে বরাদ্দ: ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা
- স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ: ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ: ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা
- গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ: ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা
মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।
এবারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে থোক বরাদ্দ নিয়ে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পভিত্তিক সরাসরি বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।
সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষক কার্ডের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে—
- বিনিয়োগ প্রকল্প: ৯৪৯টি
- কারিগরি সহায়তা প্রকল্প: ১০৭টি
- স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প: ৪৩টি
এছাড়া এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে।
এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের কিছু বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে নতুন এডিপির কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জুন ২০২৭ সালের মধ্যে সমাপ্তিযোগ্য প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিষয়:
