মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:২০ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৮৫ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৬ ডলারে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩ দশমিক ১৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিন সোমবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে প্রায় ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মূল কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘সংকটাপন্ন অবস্থায়’ বলে মন্তব্য করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি নৌ-অবরোধ ও ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান ওই অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জোরালো করায় এবং চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ায় ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি চীন-ইরান তেল বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, শান্তি চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমে আসতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
