শেয়ারবাজারে বড় পতন, রুপির মানে রেকর্ড দরপতন

বানিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি কমানো এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানের পর সোমবার ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের অন্যতম বড় পতনের মুখে পড়ে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতিতে এ চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

সোমবার প্রধান শেয়ার সূচক নিফটি পয়েন্ট এক দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে সেনসেক্স সূচক প্রায় ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।

একই দিনে ডলারের বিপরীতে রুপির মান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৩১ রুপিতে, যা এক দিনের হিসেবে রুপির ইতিহাসে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করলে বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।

ভারতের মোট ১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১৩টিতেই দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে তেল বিপণন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো—ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএল—দর হারিয়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত।

বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ভ্রমণ ও পর্যটন খাতেও বড় ধস দেখা যায়, ইন্ডিগো, ইন্ডিয়ান হোটেলস, লেমন ট্রি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

স্বর্ণ কেনা কমানোর সরকারি বার্তার প্রভাবে জুয়েলারি খাতেও বড় দরপতন হয়। টাইটান, সেনকো গোল্ড ও কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ার ৬ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

তবে বাজারের পতনের মধ্যেও কিছু কোম্পানি ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে। হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ার ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ইউপিএল কোম্পানির শেয়ার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল না হলে এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে না এলে ভারতের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

সূত্র: ডন



বিষয়:



Top