বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বানিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

স্বর্ণ । ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অগ্রগতি না হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা ভেঙে পড়ে। যুদ্ধের কারণে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং তেলের সরবরাহে সংকট বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, তারা এখন ধারণা করছে মার্কিন ফেড ডিসেম্বর ২০২৬ ও মার্চ ২০২৭-এ সুদের হার কমাতে পারে। এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেই সুদের হার কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই প্রতিবেদন ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।

অন্যদিকে চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি গলন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের স্বর্ণ উৎপাদন কমেছে।

টিম ওয়াটারারের মতে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।



বিষয়:



Top