কোরবানির দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা কি বৈধ, ইসলাম কি বলে?

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে মুসলিম সমাজে কোরবানিকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়। এ সময় কোরবানির পশু কেনা, জবাই ও গোশত বণ্টনের পাশাপাশি নানা ধরনের মাসআলা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে- কোরবানির দিনগুলোতে নাকি হাঁস-মুরগি বা অন্য কোনো ছোট প্রাণী জবাই করা যায় না। অনেকেই মনে করেন, এই সময় শুধু গরু, ছাগল, ভেড়া বা উটের মতো কোরবানিযোগ্য পশুই জবাই করা বৈধ, অন্য প্রাণী জবাই করা ঠিক নয়।

আবার অনেকেই পারিবারিক রান্না বা অতিথি আপ্যায়নের প্রয়োজনে হাঁস-মুরগি জবাই করতে গিয়েও দ্বিধায় পড়েন, এতে কোনো গোনাহ হবে কি না কিংবা কোরবানির আদবের পরিপন্থী কি না, এমন প্রশ্ন তাদের মনে আসে।

এ বিষয়ে ফক্বিহরা বলেন, কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, কোরবানি যেহেতু চার পা বিশিষ্ট প্রাণী দিয়ে করতে হয়; দু’পা বিশিষ্ট প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা যায় না, সুতরাং এ দিনে দুই পা বিশিষ্ট প্রাণী জবেহও করা যাবে না। আসলে অজ্ঞতার কারণে এ ধরনের অমূলক ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সমাজে এগুলোর প্রচলন হয়ে থাকে।

একজন ইসলামি আলেম জানান, সাধারণ খাবারের প্রয়োজনে হাঁস-মুরগি বা হালাল যেকোনো প্রাণী জবাই করা বৈধ। তবে কোরবানির নিয়তে এসব প্রাণী জবাই করা যাবে না।

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। (ফাতাওয়া কাজীখান: ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৫)

উল্লেখ্য, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে হাদিস শরিফে কঠোর বার্তা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top