পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ ! মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক হজরত মুহাম্মদ (সা.)...
রায়হান রাজীব | প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:২৪ এএম
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ বৃহস্পতিবার (১২ রবিউল আউয়াল)। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ আবির্ভাব ঘটে। আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে পিতা আবদুল্লাহ ও মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) গোটা আরব সমাজের মানুষকে নানা ধরনের অপকর্ম, পাপাচার মুক্ত করে এক আল্লাহর পথে আনার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করেন। তাঁর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানান অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত।
এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিব রসুলুল্লাহকে (সা.) প্রেরণ করেন এ পৃথিবীতে। ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যবাদিতার জন্য শৈশবেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। মহানবী (সা.) ৪০ বছর বয়সে মহান আল্লাহর নবুয়তপ্রাপ্ত হন। এরপর ২৩ বছর তিনি শান্তির ধর্ম পবিত্র ইসলামের বাণী প্রচার করেছেন।
আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে এবং সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি।
বিদায় হজের ভাষণে তিনি আল্লাহর বাণী শুনিয়েছেন মানবজাতিকে: আজ থেকে তোমাদের জন্য তোমাদের দিন তথা জীবনব্যবস্থা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। তোমাদের জন্য দিন তথা জীবনব্যবস্থা হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।
হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিহাসের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাকে মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ’ হিসেবে স্থান দিয়েছেন।
ব্রিটিশ মনীষী সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন, এই অশান্ত পৃথিবীতে তার মতো একজন মানুষের প্রয়োজন। তিনি বেঁচে থাকলে পৃথিবী জুড়ে সুখের সুবাতাস বইত। তার আগমনে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, দুনিয়া জুড়ে তা বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বনবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন ও ওফাত দিবস এক দিনেই বলেই কথিত আছে। তবে তারিখ-সময় এবং বার নিয়ে বিস্তর মতভেদ আছে।
