শিশু রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম প্রকাশ্যে এলো

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানার অতীত জীবন সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এর আগেও তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রধান আসামি সোহেল রানা পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল এবং তার অতীত আচরণ ও স্বভাবচরিত্র ভালো ছিল না।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার ছোট বোন জলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার বছর আগে সোহেল পরিবার ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরও বলেন, এমন জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

সোহেলের মা-ও অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে ছেলে পরিবার বা সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি এবং আর্থিক সহযোগিতাও করেনি।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সোহেল একজন চোর হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকারি নির্মাণসামগ্রী ও স্থানীয় কারখানার লোহা চুরির ঘটনায় একাধিকবার ধরা পড়ে মারধরের শিকারও হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বারবার পার পেয়ে যেত সে।

তার ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা বিতর্ক। প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া ও ঋণের চাপে একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে সে।

ঢাকায় এসে পল্লবী এলাকায় রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করলেও মাদকাসক্তি ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন অব্যাহত ছিল। বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় ভাড়া থাকাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে একটি গ্যারেজে কাজ নিলেও অনিয়মিত হওয়ায় চাকরি হারান তিনি। সবশেষ একটি বাসায় ভাড়া ওঠার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top