প্রবাসীকে হত্যার পর ৮ টুকরো, সেই পরকীয়া প্রেমিকা গ্রেপ্তার
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০২:৪৬ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলায় মরদেহ ৮ টুকরো করার ঘটনায় পলাতক প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তার হাসনা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ইউনিট ও মুগদা থানা পুলিশ নরসিংদী থেকে তাকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হেলেনা বেগম এবং তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই তাসলিমা পলাতক ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোকাররমের সঙ্গে একই এলাকার আরেক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফেরার পর সম্পর্কের টানাপোড়েন, অর্থ লেনদেন ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মোকাররম সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম ও তার দুই মেয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন সকালে পরিকল্পনা অনুযায়ী মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে টুকরো টুকরো করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর অভিযুক্তরা স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করে। তারা খাবার খাওয়া, বাইরে ঘোরাফেরা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যায়।
পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় মোকাররম হিসেবে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
