১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ১৮ বছরেও কার্যকর হয়নি সেই রসু খাঁর ফাঁসি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কুখ্যাত ধারাবাহিক খুনি রসু খাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পার হলেও এখনও জীবিত রয়েছেন। এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি।

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হলে দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকরের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

তদন্তে ধীরগতি, রায়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং আপিল প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে আলোচিত মামলাগুলোর বিচার। গত বছর আট বছর বয়সী আছিয়া হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও সেটি এখনও আপিল পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে দেশের অন্যতম ভয়ংকর ধারাবাহিক খুনি রসু খাঁর চূড়ান্ত শাস্তিও এখনও কার্যকর হয়নি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা রসু খাঁ শুরুতে ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী এলাকায় একটি মসজিদের পাখা চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। রসু খাঁ নিজেই স্বীকার করেন, তিনি একে একে ১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন। এমনকি তার লক্ষ্য ছিল ১০১ জন নারীকে হত্যা করা।

প্রেমে ব্যর্থতা এবং টঙ্গীতে এক পোশাকশ্রমিককে কেন্দ্র করে গণপিটুনির ঘটনার পর নারীদের প্রতি তার প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয় বলে জানা যায়। এরপর প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলতেন তিনি। ২০০৭ সালের শুরুতে নিজের শ্যালকের স্ত্রী রীনাকে হত্যার মধ্য দিয়েই তার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।

রসু খাঁর শিকার হওয়া নারীদের অধিকাংশই ছিলেন ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক। তাদের মধ্যে ফরিদগঞ্জে ছয়জন, চাঁদপুর সদরে চারজন এবং হাইমচরে একজনকে হত্যা করা হয়। অনেক ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়ায় তদন্তেও জটিলতা তৈরি হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে নয়টি হত্যা এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা।

২০০৯ সালের ২০ জুলাই ফরিদগঞ্জের হাসা খালের পাশে পারভীন নামের এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন রসু খাঁ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৬ মার্চ চাঁদপুরের আদালত রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই উচ্চ আদালত রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে রায়ের পরও এখনও তার ফাঁসি কার্যকর হয়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমও ধীরগতিতে চলছে।

বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর উচ্চ নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির সেলে বন্দি আছেন। কিছুদিন আগে তাকে কুমিল্লা কারাগার থেকে সেখানে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১৮ বছর কারাগারে থাকলেও তাকে দেখতে কোনো স্বজন বা পরিচিতজন যাননি। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— এত ভয়ংকর অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং আদালতের রায়ের পরও কেন বছরের পর বছর ধরে বেঁচে থাকে রসু খাঁর মতো খুনিরা।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top