মোকাররমকে ৮ টুকরা করে মরদেহ ফেলে ‘পার্টি’ করেন পরকীয়া প্রেমিকা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার মরদেহ আট টুকরা করে রাজধানীর মুগদা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ পলিথিনে ভরে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। উদ্ধার করা হয় মরদেহের সাতটি অংশ। পরে পাশের ময়লার স্তূপ থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি সৌদি প্রবাসী ছিলেন।

ঘটনার তদন্তে নামে র‍্যাব। এতে গ্রেপ্তার করা হয় হেলেনা বেগম নামে এক নারী এবং তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে বলে জানায় সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, মোকাররম মিয়া তার বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সেই সূত্রে তিনি তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে পাঁচ লাখ টাকা দেন।

গত ১৩ মে সৌদি থেকে দেশে ফিরে তিনি সরাসরি প্রেমিকার কাছে যান। পরে তাকে হেলেনা বেগমের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর তিনি টাকা ফেরত চান এবং ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি দেন। এই ঘটনার পর থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি র‍্যাবের।

পরদিন ১৪ মে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে লাশ টুকরা টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে। ঘটনার পরের দিন তারা একটি খাবারের দোকানে গিয়ে খাবার খায় এবং রাতে বাসায় ফিরে ছাদে এক ধরনের আয়োজন করে সময় কাটায়।

তবে তিন দিন পর লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার হওয়ার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তার এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তার সন্ধানে অভিযান চলছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top