স্পেনকে রুখে নায়ক ভোজিনিয়া, অর্থের অভাবে মাকে গ্যালারিতে আনতে পারেননি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। এই চমকপ্রদ সাফল্যের নেপথ্যের প্রধান নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে যায় এবং মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভোজিনিয়া। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ সব সেভ করে স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখেন ভোজিনিয়া। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনিয়া জানান, তার আবেগের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত বেদনা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি। তিনি বলেন, শৈশবে দাদা-দাদির কাছে বড় হলেও জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার জন্য তারা আজ আর বেঁচে নেই। এছাড়া ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মাও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, মা আজ মাঠে থাকতে পারেননি। অর্থের অভাবে তাকে এখানে আনতে পারিনি।”
ভোজিনিয়ার এই আবেগঘন গল্প ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষক তার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, বিশ্বমঞ্চে কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র কেবল একটি ফল নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিষয়: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
