বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক, সেই ম্যাচেই সুইডেনের নায়ক ইয়াসিন আয়ারি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

সংগৃহীত

বিশ্বকাপ অভিষেক যে কোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ কিছু। কিন্তু সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল আরও আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী—কারণ তার অভিষেক ম্যাচটি ছিল বাবার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।

ইয়াসিন আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিউনিসিয়ায়। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পরে পাড়ি জমান সুইডেনে। যদিও তার নিজের ক্যারিয়ার খুব বেশি এগোয়নি, তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ছেলের মাধ্যমে।

সুইডেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইয়াসিন ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে প্রতিভার পরিচয় দেন। ইউরোপীয় ফুটবলে আলো ছড়ানোর সময় তিউনিসিয়া জাতীয় দল তাকে দলে টানার প্রস্তাব দিলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সুইডেনকেই বেছে নেন।

২০২২ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও ইয়াসিন সিদ্ধান্ত নেন সুইডেনের হয়ে খেলবেন।

এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখেন তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,
“আমার ছেলে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে বলেছি সুইডেনের হয়ে খেলতে। কারণ এই দেশই তাকে গড়ে তুলেছে।”

এরপর ইয়াসিন নিজেও জানান, “আমি সুইডেনে জন্মেছি, নিজেকে সুইডিশ মনে করি। সুইডেনই আমার প্রতিনিধিত্বের দেশ।”

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই সুইডেনকে এগিয়ে দেন ইয়াসিন। নিজের বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করেও তিনি উদযাপনে সংযত থাকেন—দুই হাত তুলে ধন্যবাদ জানান এবং পরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে স্রষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানান।

শুধু গোলই নয়, ম্যাচে আরও বড় ভূমিকা রাখেন আয়ারি। তার পাস থেকে আসে সুইডেনের আরেকটি গোল, যা অ্যাসিস্ট হিসেবে যোগ হয় তার নামের পাশে।

ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়াসিন। এবার আর উদযাপনে কোনো সংযম ছিল না—পুরো স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে তার আবেগী উচ্ছ্বাসের।

বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপে অভিষেক, তাতে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট—সব মিলিয়ে ইয়াসিন আয়ারির রাতটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। ফুটবল মঞ্চে এমন গল্প খুব কমই দেখা যায়, যেখানে আবেগ, পরিচয় আর পারফরম্যান্স একসঙ্গে এভাবে মিশে যায়।





Top