বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস, যেভাবে ছড়ায়

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মে ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে নতুন এক প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটি করোনাভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি ভাইরাস, যা ভিন্নভাবে ছড়ায়।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি ও মহামারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জানান, বর্তমানে সংক্রমিত এলাকায় কোনো উপসর্গযুক্ত যাত্রী বা কর্মী নেই। অতীতের কিছু প্রাদুর্ভাবে দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটেছে।

সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অ্যালার্ট ও প্রতিক্রিয়া সমন্বয় বিভাগের পরিচালক ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ বলেন, ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় এমনই একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখানে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একটি আবদ্ধ স্থানে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের কারণে একটি সংক্রমণ ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন সংস্পর্শ অনুসন্ধান ও আক্রান্তদের পৃথক রাখা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা সম্ভব। এটি বড় কোনো মহামারি হওয়ার আশঙ্কা নেই, বরং সীমিত পরিবেশেই এর বিস্তার ঘটছে।

ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জোর দিয়ে বলেন, এটি করোনাভাইরাস নয় এবং একইভাবে ছড়ায়ও না। এটি বহু বছর ধরে বিদ্যমান একটি ভাইরাস, যা বর্তমানে একটি সীমিত পরিবেশে প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। মানুষের মধ্যে সরাসরি সংক্রমণ খুবই বিরল এবং সাধারণত দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের প্রয়োজন হয়।

তবে কোভিড-১৯ যেখানে খুব দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেখানে হান্টাভাইরাস তুলনামূলকভাবে সীমিতভাবে ছড়ায় এবং সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, সাম্প্রতিক একটি ক্রুজ জাহাজে অ্যান্ডিস ভাইরাসের একটি প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছে, যেখানে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এর জন্য অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস জানান, এই ভাইরাসের উপসর্গ প্রকাশে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, ফলে আরও কিছু নতুন রোগী শনাক্ত হতে পারে। তবে সংস্থাটির মতে, বর্তমানে এর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top