মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে যে প্রস্তাব দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য অপরাধ বন্ধে বাস্তবভিত্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি হজ সফরে আছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

পরে মন্তব্য অংশে তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার সময় তিনি হজের উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে ছিলেন। এরপর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসার আরেকটি ঘটনার সময় তিনি আকাশপথে থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে সৌদি আরবে পৌঁছে ঘটনাটি জানলেও সফরের ব্যস্ততায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ বা নির্যাতনের ঘটনা যে প্রতিষ্ঠানেই ঘটুক না কেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আবাসিক মাদ্রাসায় অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে নীরব থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং তা আরও বাড়বে।

তিনি ২০১৯ সালের একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করে কয়েকটি প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জন্য পারিবারিক আবাসনের ব্যবস্থা, নিয়মিত ছুটির সুযোগ রাখা, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন আলাদা করা, শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বিছানার ব্যবস্থা এবং নারী মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ না দেওয়া।

তিনি আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমে অনেক সময় এসব ঘটনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সত্য প্রতিফলিত হয় না। কোথাও অপরাধ ঢাকতে দুর্বল ব্যক্তিদের ফাঁসানোর ঘটনাও ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে এবং অভিযোগ থেকে একজন ইমাম মুক্তি পান।

তিনি বলেন, বড় ও প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার তুলনায় ছোট ও অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

সব ধরনের মাদ্রাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে, সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাকে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ থেকে বিরত রাখতে তালিকাভুক্ত করা হবে।

তিনি মনে করেন, এতে একদিকে অপরাধ কমবে, অন্যদিকে বাস্তব ঘটনা ও বিভ্রান্তি আলাদা করা সম্ভব হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top