হামজা-শমিতদের দাপটে ইউরোপ জয়, থমাস ডুলির অভিষেকেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য
তপু বর্মণের নৈপুণ্যে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশ ফুটবলের স্বপ্নের সূচনা
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হলো গৌরবের নতুন অধ্যায়। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে খেলতে নেমেই স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন কোচের অধীনে স্বপ্নের সূচনা করেছে বাংলাদেশ। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের মহানায়ক হয়েছেন রক্ষণভাগের ভরসার নাম তপু বর্মণ, যার জোড়া গোলেই এসেছে অবিস্মরণীয় এই সাফল্য।
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন মহাকাব্য। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে খেলতে নেমেই জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া ও তাদের বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে স্তাদিও অলিম্পিকো দি সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোলই করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। স্বাগতিকদের একমাত্র গোলটি করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।
এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হয় জার্মান কিংবদন্তি থমাস ডুলির। খুব অল্প সময় হাতে পেয়েও দলকে গুছিয়ে প্রথম ম্যাচেই জয় এনে দিয়ে স্বপ্নের সূচনা করলেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ১৯ মিনিটে মোরসালিনের দারুণ ক্রসে তপু বর্মণের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ৩১ মিনিটে জাকোপেত্তির গোলে সমতায় ফেরে সান মারিনো।
প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হলেও বিরতির পর মাঠে নেমে আরও ছন্দময় ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ, শমিত সোমের উপস্থিতি এবং মধ্যমাঠের দাপটে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে লাল-সবুজের দল।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে বিশ্বনাথ ঘোষের ভলি তপু বর্মণের মাথায় লেগে জালে জড়িয়ে যায়। নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ডিফেন্ডার। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সান মারিনো।
শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় বাংলাদেশের উৎসব। ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচেই জয়, নতুন কোচের সফল অভিষেক, আর তপু বর্মণের জোড়া গোল—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে এটি হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় রাত।
এই জয় শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের জয় নয়; বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে জানান দেওয়ার এক শক্তিশালী বার্তা। ভবিষ্যতের পথচলার জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং আশার নতুন আলো দেখাল বাংলাদেশের ফুটবল দল।
এসআর/এনএফ৭১
বিষয়:
