বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি না-ও দিতে পারে পাকিস্তান সরকার
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৯ এএম
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক ও অন্যায়’ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দেশটি।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়নি আইসিসি। এরপর বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জিও নিউজের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) জাতীয় দল বিশ্বকাপে পাঠানোর অনুমতি না-ও দিতে পারে। সূত্রের দাবি, আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ’ হিসেবে দেখছে পাকিস্তান।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পরই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা আইসিসির নীতিগত অসংগতিরই প্রতিফলন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ফেডারেল সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই পিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতভাবে জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা সরকারের অবস্থান অনুসরণ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আইসিসির নিরপেক্ষতা, শাসনব্যবস্থা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।
বিষয়:
