সীমান্তে বাড়ছে পুশ-ইন: কূটনৈতিক উদ্যোগ কি যথেষ্ট?

শামিউল বাশার (শ্যামল) | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশ-ইন’ ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—যাদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তারা আসলে কারা? তারা কি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক, নাকি ভারতীয় কিংবা অন্য কোনো দেশের নাগরিক?

নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়া শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি একটি গুরুতর রাষ্ট্রীয়, মানবিক ও কূটনৈতিক ইস্যু। সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অতীতে জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে বসবাস বা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাদের একটি অংশকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন সংকট তৈরি করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরিচয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেক মানুষকে দিনের পর দিন সীমান্তের জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। রোদ, বৃষ্টি, খাদ্যসংকট, চিকিৎসাহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সময় থাকতে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মোকাবিলা করা জরুরি। অন্যথায় এটি ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

‘পুশ-ইন’ সমস্যার মানবিক ও স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও যথাযথ ভূমিকা ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 শামিউল বাশার (শ্যামল)

[নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজফ্ল্যাশ ৭১ মুক্তমত নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, নিউজফ্ল্যাশ ৭১ কর্তৃপক্ষের নয়।]



বিষয়:



Top