শিশু মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে?

মিঠু মুরাদ | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১২:২৭ এএম

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। চারদিকে আলোর ঝলকানি, নতুন নতুন অবকাঠামো, উন্নয়নের গল্প আর স্বাধীনতার নতুন ধারা। কিন্তু এই আলোর নিচেই যেন জমে উঠছে এক ভয়ংকর অন্ধকার। নিভে যাচ্ছে ছোট ছোট মাসুম শিশুদের প্রাণপ্রদীপ। অথচ এই মৃত্যু যেন এখন আর কাউকে নাড়া দেয় না। দেখেও কেউ দেখছে না, বলার মতোও যেন কেউ নেই। চারদিকে শুধু স্বজন হারানোর আহাজারি, কিন্তু বাস্তবতা যেন দিনশেষে এক নিষ্ঠুর ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছে।

করোনাকাল ছিল বাংলাদেশের মানুষের জীবনের সবচেয়ে আতঙ্কের সময়গুলোর একটি। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। এরপর ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নেয় পরিস্থিতি। ২০২১ সালে করোনায় দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫১৩ জনের বেশি। আক্রান্ত হয় ২০ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সেই সময় মানুষ জানত না সামনে কী অপেক্ষা করছে, কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে এই অদৃশ্য শত্রুকে। চারদিকে ছিল অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। ২০২৩ সালে মৃত্যুর সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩৭ জনে এবং দেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

কিন্তু আজ আবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রকোপে দেশে ৩০০ জনের বেশি শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৭ জনের বেশি শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও প্রায় ২৮০ জনের বেশি শিশু।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, এই মৃত্যুগুলো যেন এখন আর রাষ্ট্রকে কাঁপিয়ে তুলছে না। যেন কোথাও কোনো তাড়াহুড়া নেই, নেই দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ। প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে ছোট ছোট নিষ্পাপ প্রাণ, অথচ দায়িত্বশীলদের নীরবতা মানুষকে আরও আতঙ্কিত করছে।

একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি মায়ের বুকভাঙা কান্না, একটি বাবার নিঃশব্দ হতাশা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু উন্নয়নের বড় বড় হিসাব দেওয়া নয়, মানুষের জীবন রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

প্রশ্ন থেকে যায়, আর কত শিশু মারা গেলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে? আর কত মায়ের বুক খালি হলে নড়েচড়ে বসবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? উন্নয়নের আলো তখনই সত্যিকারের অর্থ বহন করবে, যখন সেই আলো দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে।

 

মিঠু মুরাদ

গনমাধ্যমকর্মী

 

[নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজফ্ল্যাশ ৭১ মুক্তমত নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, নিউজফ্ল্যাশ ৭১ কর্তৃপক্ষের নয়।]



বিষয়:



Top