হামের শিশু মৃত্যুতে নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

মিঠু মুরাদ | প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

দেশে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা, প্রতিরোধযোগ্য রোগে প্রাণহানি এবং ভয়াবহ সহিংস অপরাধের ধারাবাহিকতা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে ৮,৩২৯ জন এবং সন্দেহভাজনভাবে আরও ৬০,৫৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল উপস্থিতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি রামিসা নামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

এর আগেও ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া নিজনান্দুয়ালি গ্রামে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৪৮৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে আরও অন্তত ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু সুরক্ষায় আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একদিকে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশু মৃত্যু, অন্যদিকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ, উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সমান গুরুত্ব না দিলে সামাজিক সংকট আরও গভীর হবে।

সব মিলিয়ে, দেশে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে জরুরি সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

 

মিঠু মুরাদ

গনমাধ্যমকর্মী

 

[নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজফ্ল্যাশ ৭১ মুক্তমত নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, নিউজফ্ল্যাশ ৭১ কর্তৃপক্ষের নয়।]



বিষয়:



Top