ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে ঠাকুরগাঁও, স্থবির জনজীবন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ এএম
টানা ৪–৫ দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে ঠাকুরগাঁও। উত্তরের এই জেলাটিতে সন্ধ্যা নামার আগেই বৃষ্টির মতো ঝরতে শুরু করে কুয়াশা। সন্ধ্যা হলেই চারপাশ ঢেকে যায় ঘন ধূসর কুয়াশার চাদরে। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলে না। দুপুরের দিকে সাময়িকভাবে সূর্য দেখা দিলেও শীতের তীব্রতা কমছে না। সারাদিন হিমেল হাওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে। এ সময় দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক এবং খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়রা। শীত থেকে বাঁচতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিক্রি বেড়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট ও কম্বলের।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সড়ক ও মহাসড়কেও। কম দৃশ্যমানতার কারণে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করছেন।
এ অবস্থায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আলমগীর কবীর ঢাকা মেইলকে জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরও বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে শীতজনিত কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিষয়:
